সাহায্যের নামে চলছে বিশাল বড় ভিক্ষার ব্যবসা। আপনিও কি এই লোককে কোথাও দেখেছেন?

Discussion/আলোচনা

২০২২/২০২৩ এর শুরুতে, মিরপুর-১ এর সনি সিনেমা এলাকায় স্ট্রিট ফুড খাওয়ার সময় দেখলাম এক বৃদ্ধ লোক (৬০-৬৬) গলায় একটা লেমিনেটিং করা কাগজ ঝুলানো নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলো। লোকটার মুখ ভরা দাড়ি, এক পা নাই, Crutches নিয়ে হাঁটছিল। তার গলার কাগজে লেখা 'ভিক্ষা করতে চাই না। একটা অটোরিকশা কিনতে সাহায্য চাই...', জাকাত, সাদকায়ে জারিয়া দেয়ার জন্য বিকাশ নামবারও দেয়া আছে। তখন এমনিতেই ভাবছিলাম রিয়েলি প্রয়োজন আছে, কিছু করে খেতে চায় এমন কাউকে দান করবো। সেই চিন্তা থেকে এই লোককে দেখেই উপযুক্ত ক্যান্ডিডেট মনে হল, কয়েকশ টাকা দিয়েছিলাম। সেই বছর বেশ কয়েকবার ওই একই জায়গায় (ঈদগাহ মাঠ এলাকায়) বেশ কয়েকবার দেখসি। তখন কোনো কিছু রং মনে হয় নাই। কিন্তু তার ১ বছর পরও দেখি এই লোক ওই জায়গায় সেইম পোশাকে, সেইম কাগজ নিয়ে সাহায্য চাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে আমার কাছে রং মনে হয়, আমার কাছে মনে হয় কেউ হয়তো এই লোককে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে। ২০২৪ সালেও বেশ কয়েকবার দেখলাম বিভিন্ন মসজিদের সামনে, স্ট্রিট ফুড-এর জায়গাগুলোতে। এই বছরও সেইম কাহিনী, সনির আশে পাশে বা মিরপুর ১, ২ এর বিভিন্ন মসজিদের সামনে এই লোকরে দেখি।

আজকেও দেখলাম মসজিদের সামনে, হাতে পলিথিন ভরা টাকাও দেখলাম। কিছুক্ষণ লক্ষ্য করে দেখলাম প্রচুর মানুষ টাকা দিচ্ছে। লোকটাও দেখি আগের থেকে বেশ খুশি। হাসিমুখে টাকা নিচ্ছে। অথচ আমি প্রথম যখন দেখেছিলাম তখন মনে হইসিলো কথা বলতে পারে না। কিছু একটা জিজ্ঞেস করসিলাম। মূর্তির মতো আমার দিকে তাকায় ছিল, কিচ্ছু বলে নাই।

বাসায় এসে ইউটিউবে 'অটো রিক্সার জন্য সাহায্য' লিখে সার্চ করে দেখি কেউ একজন এই লোকের সিগারেট খাওয়া ভিডিও আপলোড করসে। ক্যাপশনে লেখা, ভিক্ষার টাকায় বেনসন সিগারেট সাথে লম্বা পাকা সাদা দাড়ি।ভিক্ষা চাই না অটো কিনারা জন্য সাহায্য বাটপার।

আমি শিওর কেউ না কেউ এই লোককে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে। আপনার আশে পাশে যাদেরকে দেখেন তেমন কিছু করে না কিন্তু লাইফস্টাইল ভালোই, আবার একটা নেতাগিরি করার স্বভাব আছে, এদের মধ্যে অনেকেই এই ভিক্ষুকদের সর্দার।

এর আগে ২০১৮-১৯ সালের দিকে মিরপুর-২ লাভ রোড এলাকায়, এক মহিলাকে দেখি রাস্তার পাশে আধা-মরা অবস্থায় পড়ে আছে, মুখ দিয়ে রক্ত পড়তেসিলো। অনেকেই দেখে কিছু টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছিল, আবার কেউ কেউ জিজ্ঞেস করতেসিলো বাড়ি কোথায়, কি হইসে। মহিলা বলে তার ব্লাড ক্যান্সার হইসে, অনেক টাকা লাগবে, তার কেউ নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক জিজ্ঞেস করার পর কোনো এক জেলার নাম বলে (এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না), আর কিছু বলতে পারে না। অনেকেই হেল্প করার চেষ্টা করে, কিন্তু পরে কিছু টাকা দিয়ে যার যার কাজে চলে যায়। আমি আর যাইতে পারি নাই। বারবার শুধু মনে হচ্ছিল পাপ হবে। পরে আমার কিছু বন্ধুকে ডাক দিয়ে তাঁকে বিমানবন্দর রেইলস্টেশনে দিয়ে আসি। একটা টিকেট কিনে রেইলের কিছু লোককে বলে দেই যেন ঠিকঠাক পৌঁছায় দেয়। আমার একটা ফ্রেন্ড সাথে কিছু খাবার আর টাকাও দেয়। কয়েকদিন পর ফেইসবুকে দেখি এই মহিলাকে এবার ঢাকার অন্য কোনো এলাকায় পাওয়া গেছে একই রকম সিচুয়েশনে। একজন লিখসে এটা একটা বিজনেস, কেউ এই মহিলাকে দিয়ে করছে।

Posted Oct 3, 2025, 9:54 AM UTC

65
Loading comments…