এনআইডি x2
বাঙ্গুল্যান্ডে বিভিন্ন কাজে এনাইডি লাগে, এতদিন ছিল না - কিছু কিছু সময়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই বিগত নভেম্বর মাসে ঠিক করলাম এনাইডি বানাবো। সামনে নির্বাচন আসছে, তথাকথিত গণতান্ত্রিক অধিকারটাও চর্চা করি।
আমি কোন প্রকারের জগদ্দল পাহাড়ের মুখোমুখি যে হবো, সেই মুহূর্তে খেয়াল করি নাই।
আমার এলাকার নিকট নির্বাচন কমিশনে যাই জানার জন্য কী কী লাগবে, ওরা আমাকে এক কাগজ দিলো। কী কী করা লাগবে সুন্দর করে লেখা আছে।
এনআইডি বানাইতে মূলত লাগেঃ
১. অনলাইনে করা এনআইডির ফর্মের কপি
২. (অনলাইনে করা)জন্ম নিবন্ধন
৩. মা-বাবার এনআইডির ফটোকপি
৪. বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি
৫. হোলডিং ট্যাক্সের ফটোকপি
৬. এসএসসি'র(কিংবা সমতূল্য) সার্টিফিকেট
৭. ব্লাড টেস্টের ফটোকপি(হালারা এইডা দিয়া কি করবো একমাত্র আল্লায় জানে)
যা যা লাগবে সব প্রস্তুত করতে লাগলাম - সব রেডি করার প্রক্রিয়ার মাঝে খেয়াল করলাম আমার অনলাইনে করা জন্ম নিবন্ধন নাই।
ফাঁকা, সার্চ দিলে কিছু আসে না - এক্কেবারে গায়েব। এ কী ব্যাপার? আমি তো বেশ কয়েক বছর আগে আমার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করি। আমার পাসপোর্টও তো সেইটা দিয়ে করছি। ক্যামনে কি? দুই একদিন নির্বাচন অফিস থেকে ওয়ার্ড কমিশন থেকে সিটি কর্পোরেশন অফিসে ছুটোছুটি করার পর জানতে পারলাম ডিজিটাল বাংলাদেশের চোদনে আমার জন্ম নিবন্ধন কেমনে জানি সার্ভার থেকে মুছে গেছে, ওরা বললো নতুন করে বানাইতে। বঙ্গবীর্জ জয়-রে মনে মনে একশটা গালি দেওয়ার পর ভাবলাম সমস্যা নাই আবার বানাবো, এমনিতেও আমার যা যা লাগবে সব রেডি। এনআইডির জন্য যেসব ডকুমেন্ট প্রস্তুত করি অরিজিনাল জন্ম নিবন্ধন সহ তাই লাগবে।
সমস্যা একটাই - সত্যায়িত করা ছবি দিতে হবে।
সত্যায়িত করাইতে হবে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা দ্বারা। কারে দিয়ে করামু? কোন ব্যাংকের অফিসার-এর হাত জোড় করুম?
পরে মাথায় আসলো - আরেহ! আমার এক কাছের বন্ধুর মা তো বিসিএস ক্যাডার! বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করে পরেরদিন ছুটে যাই আন্টির অফিসে, নির্লজ্জের মতো আন্টিকে বললাম সত্যায়িত করে দিতে। আন্টি ভালো মানুষ, সত্যায়িত করে আবার এক কাপ চাও খাওয়াইলেন। আমি গেলাম আবার ওয়ার্ড কমিশনে, সেখানে জমা দিলাম আমার সবকিছূ। ৩-৪ দিন কেটে গেল কোন সাড়া নাই। অফিসে আবার গেলাম ওরা বললো ফর্মে কোথায় জানি ভুল ছিল, আমাকে জানাইতে পারে নাই কারণ আমি নাকি ভুল নম্বর দিছি , পরে দেখলাম উনি আমার হাতের লেখার কারণে ইংরেজি "৪" কে "৯" মনে করছে। আচ্ছা ঠিক আছে ব্যাপার না আমার ৪ টা আসলেই একটু ব্যাকা ছিল। ভুল টা নিজে স্বীকার করে ফর্ম সংশোধন করে আবার জমা দিলাম, এবং দুই দিন পরে কল দিয়ে জানতে পারলাম আমার জন্ম নিবন্ধন হয়ে গেছে। ব্যাস, এখন এনআইডির কাজ শুরু করা যায়!
সব কাগজ তো আগে থেকেই রেডি, এখন শুধু অনলাইনে ফর্মটা করা বাকি। জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না থাকায় এতদিন সেটা করা সম্ভব ছিল না। ফর্মটা করলাম এবং প্রিন্ট করলাম। ব্যাস! সব শেষ! সব ঠিকঠাক আছে কিনা ডাবলচেক করার মাঝে খেয়াল করলাম আমার এনআইডির অনলাইনে করা ফর্মের কপি প্রধম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা দ্বারা "যাচাই" করানো লাগবে। দেশের ব্যুরোক্রসিকে মনে মনে গালি দিয়ে পরেরদিন আবার আন্টির অফিসে ছুটে গেলাম। আন্টি আবারও কফি খাওয়ালেন, এইবার লাঞ্চের অফারও করেন তবে তাড়ায় থাকায় আমি মানা করে দিই। আন্টি একটু চোখ বুলিয়ে কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে সীল মেরে দেন।
পরের দিন বিজয় দিবস, তাই আঠারো তারিখে আবার যাই নির্বাচন অফিসে। ওরা দেখে বললো সব ঠিক আছে, ডেট সেট করে দেয় বেশ কিছুদিন পর। আমি মনে মনে ভাবলাম যাক বাবা পেরা নাই আর। শুধু ঘুম থেকে উঠে ছবি তোলা বাকি।
আসলো ডেট, সকালে একটু আগে-বাগে উঠে গোসল করে শেভ করে বের হই। এনআইডি তে ছাগলের মত দেখাইলে তো আরেক সমস্যা! যাই হোক অফিসে আসার পর আবার জমা দেই সব। ওরা দেখে বললো হবে না। আমি হকচকিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কেন। ওরা বললো নাগরিকত্ব সনদ নাই (অথচ আমাকে আগে বলা হয় তা লাগবে না)।
ঠিক আছে সমস্যা নাই, নাগরিকত্ব সনদের জন্য আবার ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে গেলাম। সনদ করার জন্য যা যা লাগবে তা আগে থেকেই আছে। সনদের করার সময় জানতে পারলাম সুপারিশকারীর সিগনেচার লাগবে এবং তার সাথে সুপারিশকারীর সত্যায়িত এনআইডির কপি লাগবে।
আর কতবার আন্টিকে বিরক্ত করবো? আম্মুর হাতে বানানো আচারের এক বৈয়ম হাতে নিয়ে গেলাম। সেই আবারও নির্লজ্জের মত আন্টির হেল্প চাইলাম, আন্টি আবার সত্যায়িত করে দিলেন।
সব কাগজ রেডি করে গেলাম আবার ওয়ার্ড কমিশনে । সীল-ছাপ্পার দিয়ে আমাকে ওরা বললো আঞ্চলিক সিটি করপোরেশনের অফিসে যাইতে। আমি গেলাম, হাতে হাতে করে দেওয়ার কথা, লাঞ্চ টাইমে আসছি কলে আমাকে পরেরদিন আসতে বললো। পরেরদিন ফিরে শেষ পর্যন্ত পাই আমার নাগরিকত্ব সনদ।
আচ্ছা এখন তো সব শেষ, নিশ্চই ওরা আর ঝামেলা করবে না! - ভাবলাম আমি বেকুবের মত।
গেলাম পরেরদিন আবার নির্বাচন অফিসে, জমা দিলাম সব কাগজ। ওরা দেখল, দেখার পর আমার মুখে পেশাব করলো বললো নিবে না।
কী!????
নিবে না।
কি!!!??????
এত চোদন খাওনের পর, এত খাঁটার পর হালারা আমারে কয় নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য ওরা আর এনআইডি ফর্ম নিচ্ছে না! বললো নির্বাচনের পরে নাকি নিবে!
এইটাই হইলো এই দেশের বাস্তবতা। নতুন "গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ"-এ আমার ভোটাধিকার নাই। বাসায় পৌছে টিভিতে দেখলাম জারেক টিয়া হাতে হাতে পেয়ে গেল এনআইডি।
আমার টেড টকে আসার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
Posted Dec 29, 2025, 6:28 PM UTC