অনুধাবন

Events/ঘটনা

আজকে কলেজে এক্সাম এর পর বাইরে আসতেই দেখি বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব।যেকোনো সময় হয়তো নামবে...আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরুও হয়ে যায়।তখন একটা দোকানের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম।জায়গা কম হওয়ায় কাঁধের একপাশে বৃষ্টির পানি পড়ছিল।তবে পাত্তা দেইনি।একটু পানি লাগলে তো আর কিছু যায় আসে না।কিছুক্ষণ পর খেয়াল করি অনেকদিন পর বৃষ্টি হওয়ায় দোকানের চালের ময়লা পানির সাথে মিশে কাঁধের উপর পড়ছিল এতক্ষণ। কাঁধের একপাশ টা পুরো ময়লা হয়ে গেছে।দেখতে খুবই বাজে দেখাচ্ছিল।বৃষ্টি একটু থামলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলি জায়গা টা আর রওনা দেই বাস স্টপ এর দিকে।বেশ খানিকটা পথ বাস স্টপ পর্যন্ত।এর মধ্যে বৃষ্টি আবার শুরু হয়।কিন্তু আজকের বৃষ্টি টা এমন ছিল না খুব জোরে হচ্ছিল যে কোথাও দাঁড়িয়ে আশ্রয় নিবো আবার না খুব আস্তে হচ্ছিল গায়ে লাগবে না।বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নেই।আর ফলস্বরূপ গাছের পাতা বেয়ে পড়া ময়লা ও বৃষ্টির পানিতে সাদা শার্ট খুবই বিচ্ছিরি দেখাচ্ছিল।

আসার পথে ভাবছিলাম।এভাবে যদি বাস এ উঠি।মানুষ কি ভাববে।হয়তো একটু বাঁকা চোখে দেখবে।দূরে সরে দাঁড়াতে বলবে।তার উপর ঢাকার বিকালের ভিড়।তার চেয়ে বড় কথা এখন বাসায় যাচ্ছি না।যাবো টিউশন পড়াতে।সেখানে এমন ময়লা শার্ট পরে কীভাবে যাই। বাসা থেকে চেঞ্জ করে যাবো?কিন্তু বাসায় গেলে তো লেট হয়ে যাবে।ইফতার এর সময় পড়াতে যাবো কীভাবে।আবার আজ না গেলেও হচ্ছে না,কাল ছাত্রের এক্সাম (পড়াতে গিয়ে জানতে পারি এক্সাম কাল না,পরশু)।মাথায় একটা সাদা ক্যাপ ছিল,সেটা আগে থেকেই একটু ময়লা ছিল।আর যেটুকু ময়লা পানি মাথায় পড়ার কথা ছিল সেটার হাত থেকেও এই সাদা ক্যাপ রক্ষা করেছে। মোট কথা আমার এখন পরিষ্কার কাপড় আর গোসলের দরকার।

এত কিছু ভাবতে ভাবতে একটা বাস এ উঠি।বাস এর সামনে দুই - একজন লোক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেও দেখি পিছনের জানালার পাশের সিটের পাশের সিট ফাঁকা।কিন্তু জানালার পাশের সিট এ বসে আছে একজন মহিলা। নিশ্চিত ভাবেই সে আমাদের মতো সাধারণ জীবন যাপন করে না। মাথার চুল এতটা ছোট যে মাথার খুলি দেখা যাচ্ছে। পড়নে খুবই ময়লা একটা কামিজ এবং পায়জামা।এছাড়া তার সাথে উল্লেখযোগ্য কিছু নেই।আমি বেশি কিছু না ভেবে তার পাশেই বসে পড়ি। একে তো রোজা রেখে এক্সাম দিয়ে কাহিল তাছাড়া অনেকটা পথ যেতে হবে।বসার পর পায়ের কাছে একটা কিছুর নড়াচড়া অনুভব করতে পারি।প্রথমে ভাবি হয়তো ওনার পায়ে ছোঁয়া লাগার কারণে এমন অনুভব হচ্ছে।কিন্তু খেয়াল করে দেখি আসলে সেখানে একটা দেড় - দুই বছরের বাচ্চা।সে বসে আপন মনে খেলা করছে।গায়ে কিছু নেই,মুখে কালি।আমার দিকে তাকিয়ে বেশ কয়েকবার হাসি দিলো।আমিও তাকে হাসি ও চোখ নাচানি ফেরত দিলাম।এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর সে আমার পায়ের কাছেই খেলতে লাগলো।এর মাঝে তার মা একবারও ফিরে তাকায়নি।জানিনা ঢাকার কোন নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সে মুগ্ধ ছিল।

আমরা আসলে কখনও কখনও ভুলে যাই আমরা কতটা সৌভাগ্যবান।আল্লাহ তায়ালা আমাদের কতটা ভালো রেখেছেন।নিজের সুখী হতে কি কি লাগবে তার হিসাব করতে করতে আমাদের কি কি আছে তা আমরা ভুলে যাই। আমার শার্ট বাসায় এসে ধুয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।নয়তো অন্য শার্ট পড়বো এর পর থেকে।আমার সেই সামর্থটুকু আছে।কিন্তু আমি সেটার জন্য শুকরিয়া না করে ভাবছি আমার বন্ধুরা কত প্রিভিলেজড।তারা সবসময় কত well dressed থাকে আর আমি কিনা সবসময় generic কিছু একটা পরে চলে যাই তাদের মাঝে।জীবনে প্রকৃত সুখ আসলে তখনই পাবেন যখন তার পিছনে ছোটা বন্ধ করবেন।

Posted Mar 2, 2026, 4:14 PM UTC

334
Loading comments…